রাস্তার অস্থিরতা হয়তো একসময় থমকে দাঁড়াবে, কিন্তু কে শাসন করবে, কেইবা খরচ জোগাবে এবং শেষ পর্যন্ত কী টিকে থাকবে; সেই লড়াই কেবল শুরু হচ্ছে মাত্র। আজকাল ইউরোপের খবরের শিরোনামগুলো যেন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের বিবরণ তুলে ধরছে। মার্সেই ও লিলের সিটি হলে হামলা, ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার অভিজাত দোকানপাটে লুটপাট, লিওঁতে পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে এলিসি প্যালেস ঘিরে টিয়ার গ্যাসের ঘন মেঘ তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সে ‘ডে অব রেজ’ বা ক্ষোভের দিনে আট লক্ষাধিক আন্দোলনকারী রাজপথে নেমে এসেছে। যদিও প্যারিস ও ইউরোপীয় মূলধারার মাধ্যমগুলো বিষয়টিকে স্রেফ ‘উপকণ্ঠের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ’ বা ‘অভিবাসীদের তাণ্ডব’ বলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু তথাকথিত এই বিদ্রোহীদের কাছ থেকে নজর সরালে দেখা যায়, সাধারণ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থী এবং বিত্তবান নাগরিকরাই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
ইউরোপীয় মূলধারার রাজনীতির ভবিষ্যৎ থেকে তাদের কেউই নতুন কিছু আশা করছে না। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বৈধতা হারাচ্ছে, অন্যদিকে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ধীরে ধীরে ইউরোপের বড় মঞ্চে আবির্ভূত হচ্ছে, যাদের চিন্তাভাবনা এই বিশৃঙ্খলার মাঝে ক্রমেই যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগামী ছয় মাসের মধ্যে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণকে তাদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অহংকারী পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে রাস্তা সেই পরামর্শের জবাব দিয়েছে সরকারি ভবনে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে। এই প্রতিক্রিয়া ফরাসি রাজনৈতিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত দৈন্য প্রকাশ করে। দেশের নাগরিক কাঠামো আর সমাজকে এক সুতোয় বেঁধে রাখতে পারছে না এবং একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের ওপর কারোরই আস্থা নেই।